রোহিঙ্গা পুনর্বাসনের জন্য আলোচিত ভাসানচরকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার অংশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়।
এই সিদ্ধান্তের ফলে নোয়াখালীর হাতিয়া ও সন্দ্বীপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রশাসনিক বিরোধের অবসান ঘটেছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের জরিপ শাখা গত ১৩ জানুয়ারি ভাসানচরের ছয়টি মৌজাকে সন্দ্বীপের অন্তর্গত ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়।
এর আগে ২০১৭ সালে একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ভাসানচরকে হাতিয়া উপজেলার আওতাভুক্ত দেখানো হয়েছিল। ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সন্দ্বীপের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসেন।
পরবর্তীতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের উদ্যোগে সন্দ্বীপ ও হাতিয়ার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়, যা একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনা করে।
সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মংচিংনু মারমা জানান, ভাসানচর নিয়ে দীর্ঘদিনের সীমানা বিরোধের নিষ্পত্তি হয়েছে। এ সিদ্ধান্তে স্থানীয় জনগণের মধ্যে সন্তোষ ও আনন্দ বিরাজ করছে।
কারিগরি কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, সরেজমিন পরিদর্শন, ঐতিহাসিক নথি বিশ্লেষণ এবং স্যাটেলাইট চিত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে- ভাসানচরের ছয়টি মৌজাই সন্দ্বীপ উপজেলার অংশ।
আদালতের নির্দেশনার আলোকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার কর্মকর্তা ও পেশাজীবীদের সমন্বয়ে ১৮ সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে সন্দ্বীপের ন্যায়ামস্তি ইউনিয়ন সম্পূর্ণভাবে সাগরে বিলীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে ওই এলাকাতেই নতুন ভূমি জেগে ওঠে, যা বর্তমানে ভাসানচর নামে পরিচিত।
সন্দ্বীপ উপকূল থেকে মাত্র আড়াই কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপটি মূলত বিলীন হওয়া ন্যায়ামস্তি ইউনিয়নের অংশ—এমন দাবিই দীর্ঘদিন ধরে করে আসছিলেন সন্দ্বীপের বাসিন্দার।
এসআর
মন্তব্য করুন: